সংস্কৃতি-বিনোদন

ksrm

সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ (১০:৫৩)

সিএমএইচে সুবীর নন্দী লাইফ সাপোর্টে

সিএমএইচে সুবীর নন্দী লাইফ সাপোর্টে

সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার রাতে সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা রাত ১১টার দিকে তাকে সিএমএইচে নিয়ে যান।

লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হয়েছে তাকে এর আগে কিছু বলা যাবে না।

সুবীর নন্দীর মেয়ে ফাল্গুনী জানান, সিলেটে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে গতকাল রাতে বাবা-মাকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ট্রেনে। রাত ৯টার দিকে উত্তরার কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ বাবার (সুবীর নন্দী) শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ট্রেন থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছেন তার বাবা। ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করান তিনি। কিডনি ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন সুবীর নন্দী।

সুবীর নন্দীর জামাতা রাজেশ শিকদার জানান, পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা সুবীর নন্দীকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করেন।

তিনি বলেন, বাবার অবস্থা বেশি ভালো নয়। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আমরা সবার কাছে আশীর্বাদ চাই।

৬৬ বছর বয়সী সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। নিয়মিতভাবে তার ডায়ালাইসিস করতে হয় বলে জানান তিনি।

সংগীত অঙ্গনে চার দশকের ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছরই তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় সুবীর নন্দীর জন্ম। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব কেটেছে চা বাগানে। গানের পাশাপাশি চাকরি করেছেন ব্যাংকে।

প্রাইমারিতে পড়ার সময় মা পুতুল রানীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ির পর ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন সুবীর নন্দী।সিলেট বেতারে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে।

এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান 'যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়'। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান।

১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন সুবীর । ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমান অশিক্ষিত। সেই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

ধীরে ধীরে সুবীর নন্দীর দরদী কণ্ঠের রোমান্টিক আধুনিক গান ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। চারবার পেয়েছেন বাচসাচ পুরস্কার।

সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’ শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। ‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, সুরের ভুবনে, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ ছাড়াও ‘প্রণামাঞ্জলী’ নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবাম রয়েছে তার।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খালিদ হোসেন আর নেই

সুবীর নন্দী আর নেই

বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি

বছর ঘুরে এলোরে পহেলা বৈশাখ

কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই

বর্ষপূর্তিতে ‘দেশ উৎসব’ উদযাপনে যা থাকছে

দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে ১১ বছরে দেশ টিভি

বনানী সস্মিলিত সামরিক কবরস্থানে শায়িত হলেন শাহনাজ রহমত উল্লাহ

সর্বশেষ খবর

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র পদত্যাগ

মির্জা ফখরুল দেশে ফিরছেন সন্ধ্যায়

মেক্সিকোতে অপরাধী চক্রের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১০

ফের ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে সাকিব