আদালত

সোমবার, ০৫ নভেম্বর, ২০১৮ (১৪:০৫)
মানবতাবিরোধী অপরাধ

হবিগঞ্জের লিয়াকত-কিশোরগঞ্জের আমিনুলের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়াকরি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ও কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায় পড়া চলে।

রায়ের সময় আদালতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও মোখলেসুর রহমান বাদল।

পরে রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি অভিযোগকে সন্দেহতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অভিযোগের যে গুরুত্ব, প্রতিটি অভিযোগে এ দু’জন আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যুন্ত এ দণ্ড অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম শুনানি করেন।

২০১৬ সালের ১ নভেম্বর ওই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত শেষ করার পর তা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা। এরপর ১৮ মে দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

এ দু’জনের বিরুদ্ধে একাত্তরে হবিগঞ্জের লাখাই থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানা এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের সাতটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত করেন মো. নূর হোসেন।

দুই রাজাকারের পরিচয়:

১৯৭১ সালে লিয়াকত আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের ছাত্র ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে ফান্দাউক ইউনিয়নে রাজাকারের দায়িত্ব পালন করে সে। স্বাধীনতার পরে লাখাই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতিও হয় এ রাজাকার।

এদিকে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার আলীনগরর গ্রামের রজব আলী ভৈরব হাজী হাসতম আলী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ইসলামী ছাত্র সংঘের কলেজ শাখার সভাপতি ছিল।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে রজব আলী এলাকায় আল বদর বাহিনী গঠন করে। স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে দালাল আইনে তিনটি মামলা হয় এবং ওইসব মামলার বিচারে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। ১৯৮১ সালে রজব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়। এরপর সে ‘আমি আল বদর বলছি’ নামে একটি বই প্রকাশ করে।

সাত অভিযোগ

এক. ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লিয়াকত ও রজব রাজাকার এবং পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে লাখাই থানার কৃষ্ণপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গণহত্যা ও লুটপাট চালিয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামে নৃপেন রায়ের বাড়িতে রাধিকা মোহন রায় ও সুনীল শর্মাসহ ১৫ জন জ্ঞাত ও ২৮ জন অজ্ঞাত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের গুলি করে হত্যা করে।

দুই ও তিন. একই এলাকার চণ্ডিপুর ও গদাইনগর গ্রামে গণহত্যা ও লুটপাট করে তারা।

চার. অষ্টগ্রাম থানার সদানগর গ্রামে শ্মশানঘাটে হত্যাকাণ্ড চালায় তারা।

পাঁচ. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার ফান্দাউক গ্রামের বাচ্চু মিয়াকে অপহরণ এবং রঙ্গু মিয়াকে অপহরণ ও হত্যা করে তারা।

ছয় ও সাত. অষ্টগ্রাম থানার সাবিয়ানগর গ্রামে চৌধুরী বাড়িতে হত্যা ও সপ্তম অভিযোগে সাবিয়ানগর গ্রামে খাঁ বাড়িতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

বিচারপতির প্রতি খালেদার আইনজীবীদের অনাস্থা

নির্বাচন করতে পারছেন না টুকু-দুলু

খালেদার নথিপত্র সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হলো

ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করার বৈধ নিয়ে রুল

নির্বাচন করতে পারছেন না আলী আজগর

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের বিভক্ত রায়

হিরো আলমের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ

টুকু-দুলু ফিরে পেল প্রার্থিতা

সর্বশেষ খবর

৩০০ আসনেই গণগ্রেপ্তার চলছে: রিজভী

পদত্যাগ করেছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে

সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন সম্ভব: ইসি

ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার নয়: সিইসি