আদালত

মঙ্গলবার, ০৯ অক্টোবর, ২০১৮ (১৫:০২)

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় কাল

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দলটিকে নেতৃত্বশূন্য করতে তার ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা।

গত ২০০৪ সালের একুশে আগস্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ওই হামলায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পারন। তবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন দলের ২৪ জন নেতাকর্মী।

আহত হয়েছিলেন তিন শতাধিক মানুষ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল-বুধবার হতে যাচ্ছে ওই বর্বরতার বিচার।

২০০৪ সালে তখন ক্ষমতায় বিএনপি-জামাত জোট। দুই যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা নিজামী-মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে চলছিল সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান তখন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, চালান হাওয়া ভবন। যা পরিচিতি পায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকল্প-কেন্দ্র হিসেবে।

১৪ বছর আগের ২১ আগস্টে, ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামাত জোটের অব্যাহত সন্ত্রাস-নাশকতার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজন করে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশের। যোগ দেয় দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক। যদিও পূর্বনির্ধারিত সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল তোপখানা-পল্টন মোড়ে মুক্তাঙ্গনের সামন কিন্তু পুলিশের কারণে সমাবেশ চলে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে।

সেখানে ট্রাকের ওপরে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সে সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যখন বক্তৃতা করছিলেন। বক্তব্য শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ঘটে গ্রেনেড হামলা। তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছোড়া হতে থাকে গ্রেনেড।

শেখ হাসিনা সে ভাবেই বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার চক্রান্ত, উদ্দেশ্য ও তার টার্গেট হওয়ার কথা।

মঞ্চের সামনে-পেছনে-পাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় গ্রেনেডগুলো। মুহূর্তেই দলের নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন। ততক্ষণে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় পুরো সমাবেশস্থল। মারা যান ২৪ জন নেতাকর্মী আহত হন তিন শতাধিক।

নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে দ্রুত তার গাড়িতে তুলে দিতে যান, তখন গাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি চালায় হামলাকারীরা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা।

গাড়ি তাকে নিয়ে রওনা দেয় ধানমণ্ডির সুধাসদনের পথে।

আর সেদিনের পুলিশ আহতদের উদ্ধার এবং হামলাকারীদের আটকের চেষ্টা না করে উল্টো টিয়ারগ্যাস আর গুলি ছুঁড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

এরপরই তিন দফা তদন্তে উদঘাটিত হয় গ্রেনেড হামলার পূর্বাপর।

হামলাকারীরা ছিল নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদ-হুজির জঙ্গি-সন্ত্রাসী। পেয়েছিল সরকারি রাজনৈতিক আনুকূল্য। ছিল রাষ্ট্রীয় পুষ্ঠপোষকতা।

আন্তর্জাতিক যোগসাজশে রাষ্ট্র-প্রশাসনের স্তর গলিয়েই গ্রেনেড পৌঁছে সন্ত্রাসীদের হাতে।

যুক্ত হন তৎকালীন মন্ত্রী মুজাহিদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ও উপমন্ত্রী পিন্টু। একই যোগসূত্রে উপমন্ত্রীর ভাই জঙ্গি মাওলানা তাজউদ্দিন। বেরিয়ে আসে হাওয়া ভবন ও তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতা।

সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা আর দীর্ঘ আইনি পথ পেরিয়ে অবশেষে হতে যাচ্ছে দেশের প্রধানতম সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা ও নেতৃত্বকে হত্যা করার এমন প্রাণঘাতী হামলার বিচারের রায়।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

সম্পদের হিসাব না দেয়ায় বিএনপির রফিকুলের ৩ বছরের কারাদণ্ড

নয়াপল্টন সংঘর্ষ: হেলমেটধারীরা আটক-তোলা হবে আদালতে

সাজা বাতিল চেয়ে খালেদার আবেদন

খালেদার যথাযত চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশ: হাইকোর্ট

মির্জা আব্বাস-আফরোজা আব্বাসকে ৮ সপ্তাহের আগাম

খালেদার চিকিৎসার রিটের আদেশ সোমবার

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: সাজা বাতিল চেয়ে খালেদার আবেদন

হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে খালেদার রিটের আদেশ রোববার

প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ঝিনাইদহে 'জঙ্গি আস্তানায়' অভিযান, আটক ১

পুলিশ সদর দপ্তরে নীলনকশার অভিযোগ ভিত্তিহীন: ওবায়দুল

সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে বক্তব্য রাখবেন বদরুদ্দোজা