আদালত

ksrm

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ (১৮:১৯)

মানবতাবিরোধী অপরাধ: এনএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ওয়াহিদুল গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল পরোয়ানা জারি করার পর রাজধানীর বারিধারার বাসা থেকে ওয়াহিদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াহিদুল হক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য ছিল। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে দুই বছর পর তিনি পুলিশে যোগ দেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় দায়িত্ব পান এবং এরপর গত শতকের শেষ দিকে তিন বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে।

পাকিস্তান আর্মির সাবেক সদস্য হিসেবে তাকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে আইনজীবী তুরিন বলেন, দুই বছর আগে ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তালিকাভুক্ত করা হয়। সে অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হয়।

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্টে পাঁচ থেকে ছয়শ নিরস্ত্র বাঙালি ও সাঁওতালের ওপর মেশিনগানের গুলি চালিয়ে হত্যা ছাড়াও মানবতাবিরোধী নানা অপরাধের সঙ্গে আসামি ওয়াহিদুল হকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, আসামির বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। রাজধানীর বারিধারার যে বাড়ি থেকে তাক গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটিই তার বর্তমান ঠিকানা।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৬৬ সালের ১৬ অক্টোবর মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১১ ক্যাভালরি রেজিমেন্টে কমিশন পান। পরে তাকে ২৯ ক্যাভালরি রেজিমেন্টে বদলি করা হয়। ১৯৭০ সালের মার্চে ২৯ ক্যাভালরি রেজিমেন্ট রংপুর সেনা নিবাসে স্থানান্তরিত হলে ওয়াহিদুল হকও সেখানে চলে আসেন। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই রেজিমেন্টের অ্যাডজুটেন্ট ছিল তিনি। ওই বছরই তিনি বদলি হয়ে আবার পাকিস্তানে (পশ্চিম পাকিস্তান) চলে যান। সেখানে তিনি ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরে ওয়াহিদুল হক। ১৯৭৬ সালের ১ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ দেয়া হয়।

জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৭ সালে কুমিল্লার এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ওয়াহিদুল। পরের বছর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ১৯৮২ সালে নোয়াখালী জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করে।

১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পাকিস্তান আমলের এ সেনা সদস্য। এরপর ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

ওয়াহিদুল হককে পরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এনএসআইর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক করা হয়।

এরপর ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করর। ওই দায়িত্ব শেষে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

জিয়া চ্যারিটেবল মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে

খালেদা জামিন বাড়ল ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ আসামিপক্ষের আইনজীবীদের

তারেকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে ২য় তদন্ত প্রতিবেদনে

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের

১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন, ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারীদের নেতৃত্বশূন্য করতেই গ্রেনেড হামলা

জনপ্রিয় নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আইসিইউতে

ঢাবির ঘ ইউনিটের ফল প্রকাশ বিকালে

নরসিংদীতে দুই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান

জিয়া চ্যারিটেবল মামলার রায় ২৯ অক্টোবর