বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ (১৩:২৬)

ছয় মাসের জন্য আটকে গেল যশোর রোডের শতবর্ষী গাছকাটা

ছয় মাসের জন্য আটকে গেল যশোর রোডের শতবর্ষী গাছকাটা

যশোর রোডের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী দুই সহস্রাধিক গাছ কাটায় ছয় মাসের স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছে।

রিট আবেদনে পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

গত ৬ জানুয়ারি যশোরের জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় সাংসদসহ অন্যান্য পদাধিকারীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ২ হাজার ৩১২ গাছ কেটে ফেলা হবে।

এর আগেও সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ওইসময় ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে বলা হয় যে গাছগুলো অক্ষত রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে।

যশোর রোডের এসব গাছের মধ্যে ১৭৪ বছরের পুরোনো যশোরের তৎকালীন জমিদার কালী পোদ্দারের লাগানো তিন শতাধিক মেঘ শিরীষও রয়েছে। বর্তমানে যশোর রোড মানেই এই সব প্রাচীন বৃক্ষের সমাহার।

শত বছরের ঐতিহ্য-স্মৃতি বিজড়িত যশোর রোডের গাছ কাটা নিয়ে গত সোমবার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মো. মহিবুল্লাহর পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে।

ইশরাত হাসান বলেন, ওপার বাংলায় সরকার একই রোডে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, পরে কলকাতা হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আমরা চাই রাস্তা হোক। তবে গাছ রেখেই কারণ এটি স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত সড়ক। যে সড়ক দিয়ে হাজার হাজার এ দেশীয় শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এই গাছগুলো সেসব শরণার্থীদের সাক্ষী হিসেবে দণ্ডায়মান তাই সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়ে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর শহর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য ৩৮ কিমি। এই রাস্তার দু’পাশে সড়ক ও জনপথের হিসাব অনুযায়ী গাছ রয়েছে ২৩১২টি। এর মধ্যে দুইশোর বেশি গাছ রয়েছে যেগুলোর বয়স ১৭০ বছরের বেশি। গাছ গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক ঘটনা এবং স্থানীয় মানুষের আবেগঘন স্মৃতি। তাই গাছগুলো একেবারে কেটে নিশ্চিহ্ন করে রাস্তা সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।

এই রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পটি পাস হয় ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। যশোরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলছিলেন যেভাবে প্রকল্পটি পাস হয়েছে ঠিক সেভাবে বাস্তবায়ন করতে গেলে গাছ কাটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

তিনি বলেন রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য টেন্ডার অনুমোদনের কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে- এ মাস অর্থাৎ জানুয়ারিতে হয়ে গেলে ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু করা সম্ভব।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি রোববার

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: ৪৪ যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার আপিল

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল খালেদা জিয়ার

সোমবারের মধ্যে রায়ের কপি পাওয়ার আশা বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের

খালেদা জিয়াকে ২৫ মার্চ আদালতে হাজিরের নির্দেশ

রোববার আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

মাদকের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে প্রশ্নফাঁস: আদালত

খালেদা জিয়া জামিন পাবেন, দাবি আইনজীবীদের

ছুটির দিনে প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধাপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের ক্ষমা না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

রাখাইন সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ১৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ