আজহারুল-সুবহান- কায়সারের আপিল শুনানি ২১ নভেম্বর

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭ (১৮:২৬)
আজহারুল-সুবহান-কায়সারের-আপিল-শুনানি-২১-নভেম্বর

আজহারুল-সুবহান- কায়সার

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির আবদুস সুবহান এবং জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানি পেছানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ তিন মামলার আপিল শুনানির জন্য ২১ নভেম্বর নতুন দিন ঠিক করেছে।

এরমধ্যে আজহার ও কায়সারের আপিল শুনানি মঙ্গলবারই শুরু হওয়ার কথা ছিল আর সুবহানের আপিল শুনানির জন্য ১৬ অক্টোবর দিন রাখা ছিল।

তবে আজহার ও সুবহানের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দেশের বাইরে থাকায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন আট সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম করেন চার সপ্তাহ সময়ের আবেদন।

শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির আপিল শুনানির জন্য ২১ নভেম্বর নতুন দিন দেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম:

উল্লেখ, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরধ ট্রাইব্যুনাল-১ মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

প্রসিকিউশনের আনা নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা এবং ১৪ জনকে খুনের অপরাধে।

এছাড়া ওই অঞ্চলের বহু নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়ার অভিযোগে বদর কমান্ডারকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করে এ জামাত নেতা।

আবদুস সুবহান

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পানায় হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবদুস সুবহানকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাণদণ্ড দেয়।

প্রসিকিউশনের আনা ১ নম্বর অভিযোগে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বের করে ২০ জনকে হত্যা; ৪ নম্বর অভিযোগে সাহাপুর গ্রামে ছয় জনকে হত্যা এবং ৬ নম্বর অভিযোগে সুজানগর থানার ১৫টি গ্রামে কয়েকশ মানুষকে হত্যার দায়ে সুবহানকে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।

২ নম্বর অভিযোগে পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা গ্রামে পাঁচ জনকে হত্যা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে সদর থানার ভাড়ারা ও দেবোত্তর গ্রামে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড।

এছাড়া ৩ নম্বর অভিযোগে ঈশ্বরদীর অরণখোলা গ্রামে কয়েকজনকে অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় সুবহানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

প্রসিকিউশন ৫, ৮ ও ৯ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে সুবহানকে খালাস দেয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ মার্চ আপিল করে সুবহান।

যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে সুবহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকে তিনি কারাগারেই আছে।

সৈয়দ কায়সার

মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে সৈয়দ কায়সারকে ২০১৫ সলের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে ওই দুই জেলায় যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দেয় এ মুসলিম লীগ নেতা। জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি হয়ে যান বিএনপির লোক, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় জাতীয় পার্টির।

সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৪টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

তাকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয় ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে, যার মধ্যে দুই নারীকে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। এই দুই বীরাঙ্গনার মধ্যে একজন এবং তার গর্ভে জন্ম নেয়া এক যুদ্ধশিশু এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি আপিল করে সৈয়দ কায়সার।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

মামলা দেয়া হয়েছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে: খালেদা জিয়া

রংপুরে তাণ্ডব: অভিযুক্ত টিটু রায় ৪ দিনের রিমান্ডে

ফরহাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চায় ডিবি

সাবেক বিচারপতি জয়নুলকে দেয়া চিঠির বৈধতা পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি

লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা: সোহেল মাহফুজ ৩ দিনের রিমান্ডে