রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭ (১৫:৩৬)

মুফতি হান্নানসহ ৩ জনের রিভিউ খারিজ, মৃত্যুদণ্ড বহাল

মুফতি হান্নান

সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী ওপর বোমা হামলার মামলায় মুফতি হান্নানসহ ৩ জনের রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।

রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী তারা এখন কেবল কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এর নিষ্পত্তি হলেই সরকার কারাবিধি অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করবে।

রিভিউ শুনানিতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন এনকে সাহা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান।

সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দাখিল করেন মুফতি হান্নানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। আবেদনে ফাঁসির রায় বাতিল করে খালাসের আরজি জানানো হয়।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মুফতি হান্নানসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

রায়ে এ বিষয়ে আসামিদের আবেদন খারিজ ও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত।

হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন।

বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দাল আপিল না করায় তাদের দণ্ডও থাকে।

গত ১৮ জানুয়ারি ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদন করার কথা জানান হান্নান ও বিপুলের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।

উল্লেখ , ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়।

হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিন জন নিহত হন।

মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। গত বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন। গত বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: ৪৪ যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার আপিল

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল খালেদা জিয়ার

সোমবারের মধ্যে রায়ের কপি পাওয়ার আশা বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের

খালেদা জিয়াকে ২৫ মার্চ আদালতে হাজিরের নির্দেশ

রোববার আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

মাদকের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে প্রশ্নফাঁস: আদালত

প্রশ্ন ফাঁস তদন্তে দুটি কমিটি: হাইকোর্ট

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সুরক্ষার অঙ্গীকারে ইউনেস্কো

ভাষা দিবসে মিলিত হলো দুই বাংলার মানুষেরা

দেশ এখন গণতন্ত্রহীন: মির্জা ফখরুল

এদিনেই রচিত হয় রক্তঝরা ইতিহাস