বটমূলে হামলা: আট আসামির ডেথ রেফারেন্সের আপিলের শুনানি শুরু

রবিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০১৭ (১৩:০২)
বটমূলে-হামলা-আট-আসামির-ডেথ-রেফারেন্সের-আপিলের-শুনানি-শুরু

রাজধানীর রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা

রাজধানীর রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় মুফতি হান্নানসহ আট আসামির ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি রোববার শুরু হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে।

পেপারবুকে মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, বিচারিক আদালতের রায়সহ পূর্ণাঙ্গ বৃত্তান্ত থাকে।

উল্লেখ, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা মেরে হত্যা করা হয় ১০ জনকে। হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জঙ্গিকে এ মামলার আসামি।

এ হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায়ে মুফতি হান্নানসহ আট জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

অন্য হলো: আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলো: শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আব্দুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য: পেপারবুকের তথ্য অনুসারে ১৪ আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামি এখনো পলাতক।

তারা হলো: তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, আবু বকর, শফিকুর ও আবদুল হাই।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে সাত জনের করা ছয়টি আপিলের শুনানি আজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে মুফতি হান্নান, আকবর হোসেন, সুমন, শাহদাত উল্লাহ ও আবু তাহের পৃথক আপিল করেছেন। তবে শেখ ফরিদ ও মো. ইয়াহিয়া দুজন মিলে করেছেন একটি আপিল। সঙ্গে রয়েছে মুফতি হান্নান, আকবর হোসেন ও সুমনের জেল আপিল।

মামলার বিবরণ:

বিগত ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই নয় জন মারা যান। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন।

এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন। হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হলেও অন্য মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

এ ঘটনার প্রায় আট বছর পর দুই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার অষ্টম তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দুটি মামলারই অভিযোগপত্র একসঙ্গে দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য মামলা দুটি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। ওই আদালতে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পৃথকভাবে মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের সিদ্ধান্তে হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এ এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী মামলা দায়রা আদালতে ফেরত যায়। ফলে হত্যা মামলাটি আবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে স্থানান্তর হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

গাইবান্ধার আজিজসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

মুক্তিযোদ্ধার ন্যূনতম বয়সের গেজেট কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টে রিট

গাইবান্ধার আজিজসহ ৬ জনের রায় বুধবার

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ- জাদুঘর স্থাপন চেয়ে রিট

ক্লিনিক-হাসপাতাল মরদেহ জিম্মি করতে পারবে না: হাইকোর্ট

মৌলভীবাজারের ৫ আসামির রায় যে কোনো দিন